নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরের গাছা এলাকায় ভুয়া মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে এক বাড়ির মালিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (৭ জুন) রাতে স্থানীয় জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ কল দিলে গাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক মো. আয়নাল হক বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আটককৃতরা হলেন— মো. মিঠু (৩৫) এবং শ্রাবন্তী আক্তার (৩০)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আয়নাল হকের বাসায় গত ৭ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে প্রবেশ করেন মিঠু ও শ্রাবন্তী। বাসায় ঢুকেই মিঠু নিজেকে ‘তিতাস গ্যাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং আয়নাল হকের বাসার গ্যাস সংযোগটি অবৈধ বলে দাবি করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রতারক চক্রটি আয়নাল হককে হুমকি দিয়ে বলে— কিছুক্ষণের মধ্যেই নারী ম্যাজিস্ট্রেট এনে তার বাড়িতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে, মামলা দেওয়া হবে এবং তাকে জেলেও পাঠানো হতে পারে। এই আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং বিষয়টি ‘রফাদফা’ করার জন্য ভুক্তভোগীর কাছে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মিঠু। টাকা না পেয়ে পুনরায় চাপ, অতপর জনরোষ: প্রথম দফায় টাকা না পেয়ে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় আয়নাল হকের বাসায় চড়াও হন এবং দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় বাড়ির মালিকের আচরণে সন্দেহ হলে তিনি প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। স্থানীয়দের জেরার মুখে পড়ে অভিযুক্ত মো. মিঠু মিয়া তিতাস কর্মকর্তার পরিচয় বাদ দিয়ে নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে দাবি করেন। বেগতিক দেখে তিনি আরও জানান, মো. জয়নাল (৩০) ও মো. আশরাফুল (৩৫) নামের দুই ব্যক্তি তাদের এই কাজ হাসিলের জন্য সেখানে পাঠিয়েছেন। উপস্থিত জনতা তাদের কথাবার্তায় প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাৎক্ষণিক '৯৯৯'-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে কথিত তিতাস কর্মকর্তা/সাংবাদিক মিঠু ও কথিত ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবন্তী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকতা ও বিচারিক ক্ষমতা অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এসব পরিচয় ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা ও অর্থ আদায় করা জঘন্য অপরাধ। তারা এই চক্রের পেছনে থাকা মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। গাছা থানা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।