গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকায় একটি পরিবহন কাউন্টারে হামলা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর, নগদ অর্থ লুটপাট এবং এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে বাসন থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) আহত পরিবহন ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল সিয়ামের মা মোছা. শাহনাজ পারভীন বাদী হয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মালিকানাধীন 'সিয়াম এন্টারপ্রাইজ' নামে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযুক্তরা সিয়াম এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে হামলা চালায়। এ সময় তারা পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে পরিবহন ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৪৯৪৮ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাসে উঠে যাত্রীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দিয়ে বাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত শাহিন মন্ডল ধারালো চাপাতি দিয়ে আব্দুল্লাহ আল সিয়ামের মাথায় কোপ দেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া অন্যান্য অভিযুক্তরা লাঠি, বেল্ট ও বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা পরিবহন কাউন্টারেও ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে। একই সঙ্গে কাউন্টারের ড্রয়ারে থাকা ১০ লাখ টাকা এবং আহত সিয়ামের পকেটে থাকা ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ আল সিয়ামকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদী শাহনাজ পারভীন জানান, ছেলের চিকিৎসা এবং অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় এজাহারে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।