স্টাফ রিপোর্টার :
লিথি গ্রুপের পাঁচটি কারখানার অধিকারবঞ্চিত শ্রমিকরা তাদের আইনানুগ পাওনা দ্রুত নির্ধারণ ও পরিশোধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারণের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি, ফলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন লিথি গ্রুপের শ্রমিক আমির হোসেন। তিনি বলেন, পাঁচটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হাজারো শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে তাদের আইনানুগ পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, গত ৬ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারণের লক্ষ্যে ২৩ জুলাই পুনরায় সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সেই সভা না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কেন সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলো না এবং কার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার পরিবর্তে একটি কথিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নোটিশ পে ১৫ দিন এবং সার্ভিস বেনিফিট প্রতি বছরের জন্য ১০ দিনের মূল মজুরির সমপরিমাণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে, যা শ্রমিকরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের আরও অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যালয়ে আইনগত এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও চাপের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—২৩ জুলাইয়ের স্থগিত সভা দ্রুত আহ্বান, শ্রম আইন অনুযায়ী পূর্ণ পাওনা নির্ধারণ ও পরিশোধ, প্রত্যাখ্যাত সমঝোতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বন্ধ এবং কথিত সমঝোতা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত।
সভাপতির বক্তব্যে আমির হোসেন বলেন, আগামী ৩ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারণের সভা আহ্বান এবং দ্রুত পাওনা পরিশোধের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হলে ৪ আগস্ট থেকে শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং লিথি গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার প্রায় ৫০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে শ্রমিকরা সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে লিথি গ্রুপের শ্রমিকদের আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।


