ঢাকাশনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেনাবাহিনীর পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের মারধরের অভিযোগ, পরীক্ষা দিতে পারেননি ফাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সেনাবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যশোর যাওয়ার পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী ফাহিমের দাবি, পুলিশের মারধরের কারণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

গত ৩০ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ভোগরা বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ফাহিম। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

ফাহিমের অভিযোগ, ওই রাতে সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যশোর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে ভোগরা বাইপাস এলাকায় যান তিনি। সেখানে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের কাছে যশোর যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে তল্লাশির কথা বলে সড়কের পাশের অপেক্ষাকৃত অন্ধকার স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ফাহিমের ভাষ্য, তিনি সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তল্লাশি করতে হলে সবার সামনে করা হোক। এতে পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, মারধরের সময় তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তার চিৎকার ও কান্নাকাটিতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন।

ফাহিমের অভিযোগ, কনস্টেবল হুমায়ুন ও কনস্টেবল বুলবুল তাকে মারধর করেন। পরে ঘটনাস্থলে এএসআই সবুজ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা আসেন। ফাহিমের দাবি, তার অবস্থা দেখে ওই কর্মকর্তা চিকিৎসার জন্য টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি টাকা না নিয়ে কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকার বাসায় ফিরে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।

ফাহিম বলেন, “আমি সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষা দিতে যশোর যাচ্ছিলাম। পুলিশের কাছে যশোর যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে তল্লাশির কথা বলে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চায়। আমি সবার সামনে তল্লাশি করতে বললে তারা আমার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশের মারধরের কারণে আমি গুরুতর আহত হই। ফলে যশোরে গিয়ে সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। সেনাবাহিনীতে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এই ঘটনার কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে।”

পরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসার জন্য ফাহিম গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। চিকিৎসা নেওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাসন থানায় যান তিনি।

ফাহিমের অভিযোগ, থানায় গিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত কনস্টেবল বুলবুলকে দেখতে পান। তাকে দেখে চিনে ফেলার পর ঘটনার রাতে দায়িত্বে থাকা এএসআই সবুজ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ফাহিম বলেন, “আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে চিকিৎসার জন্য সাড়ে চার হাজার টাকা দেওয়া হয়। এখন আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি। সাদা কাগজে কী লেখা হয়েছে, আমি জানি না। মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা করছে। ডাক্তার সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন।”

ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা বাসন থানার এএসআই সবুজ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, সেদিন তার ডিউটির গাড়িতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তিনি চালককে নিয়ে কিছুটা দূরে গাড়ি ঠিক করার কাজে ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে পুলিশ সদস্যরা নির্যাতন করেছেন জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান।

এএসআই সবুজ বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি শিক্ষার্থীর অবস্থা দেখি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ২ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে টাকা না নিয়ে চলে যায়।”

তিনি আরও বলেন, পরে থানায় এসে পুলিশ সদস্য হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একটি জিডি করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কনস্টেবল বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই সবুজ বলেন, “বুলবুল জড়িত থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি সে জড়িত থাকে, তাহলে ওসি স্যারকে জানাব এবং তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।”

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সবুজ প্রথমে এটিকে ‘মুচলেকা নয়, সমঝোতা পত্র’ বলে দাবি করেন। তবে সাদা কাগজে কেন স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

ঘটনার বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়টি আমার জানা নেই।”

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ফাহিম ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের কথিত মারধরের কারণে সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
Premium SEO Backlinks
Premium SEO Backlinks