জোবায়ের হোসেন ইফতি
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চৈথট্ট গ্রামের মো. নাসির উদ্দিন (৩১) এবং মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকার দরদরিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মো. সুজন মিয়া (২৭)।
পুলিশের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট গভীর রাতে গাছা থানার বাদে কলমেশ্বর এলাকার ভূষির মিল রোডে ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’-এ স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করে মালামাল লুট করা হয়। পরদিন দোকান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর মামলার তদন্তে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে চারজনকে ওই স্বর্ণের দোকানে প্রবেশ ও পরে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন ও সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাথরসহ রুপার আংটি, রুপার কানের দুল, ইমিটেশনের বালা, হার, পিন এবং একটি কালো রঙের Redmi মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গাছা থানা পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। মামলায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এর আগে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মানববন্ধনও করেছিলেন।


