নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাহাটা এলাকার কাশেম টেক্সটাইল রোডে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে ফুলবানু (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। তিনি মৃত শাহ আলমের স্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সরবরাহ চালিয়ে আসছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুলবানু ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে ইটাহাটা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও কেনাবেচা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক কারবারের অভিযোগে ফুলবানুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফুলবানু ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রভাবের কারণে মাদক কারবারের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান। কেউ কেউ অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে নানা ধরনের চাপ বা হয়রানির আশঙ্কায় তারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চান না বলে দাবি করেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ভয়ের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে, তাহলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, কাশেম টেক্সটাইল রোড ও আশপাশের এলাকায় অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ফুলবানুর বিরুদ্ধে বাসন থানাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ থাকার পরও যদি সত্যিই সেখানে মাদক কেনাবেচা চলতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
তাদের দাবি, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ফুলবানু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, মাদক বিক্রির সম্ভাব্য স্পটগুলোতে নজরদারি এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।


