তানজিল মাহমুদ হিমেল,গাজীপুর :
গাজীপুরে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ডাকাতি মামলায় দুই যুবককে গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকার ৩৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী রাহুলের মা ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, ৩৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক খান ও তার ভাই হালিম খানের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গাছা থানাধীন ইয়াকুব আলী মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ‘মেসার্স শাফিন প্যাকেজিং এন্ড প্রিন্টিং’-এ একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই মামলার অভিযোগে গত ১২ মার্চ দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে ঢুকে রাহুলকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায়। এর ঘণ্টাখানেক পর একই বাসার ভাড়াটিয়া মোঃ শাকিল হোসেনকেও একইভাবে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা বেগম বলেন, “পুলিশ দাবি করছে তাদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক। তাদের নিজ বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশ তল্লাশির সময় একটি ধারালো চাকু ও পেপার কাটার উদ্ধার দেখিয়েছে, যা মূলত পুলিশের কাছেই ছিল। আমাদের সন্তানদের ফাঁসাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ডাকাতি মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে মামলার বাদীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বাদীর সনাক্ত মোতাবেক রাহুলের বাসা থেকে তার হেফাজত হতে জব্দকৃত মালামাল পুলিশ উদ্ধার করেছে।সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করে: ১. মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডাকাতি মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. অভিযুক্তদের দ্রুত জামিন নিশ্চিত করতে হবে। ৩. ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান তার বিরুদ্ধে ৭ টি মামলা রয়েছে যার মধ্যে একাধিক মামলা তদন্তাধীন।তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে রুজুকৃত মামলা রয়েছে যাতে পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখানো হবে। ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে সে নিরপরাধ হলে মামলা তদন্ত শেষে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রাহুলের বাবা মাসুদ খান, বড় বোন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


