নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডার জেরে রিপোর্টার জয়কে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘Journalist Mukta Mia’ নামের একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদাবাজি ও এক সাংবাদিককে মারধরের একটি ঘটনা নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘Joy Live’ ও ‘Journalist Mukta Mia’ নামের ফেসবুক আইডির মধ্যে প্রথমে প্রকাশ্য মন্তব্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও কটূক্তির বিষয়টি ফেসবুকের প্রকাশ্য কমেন্ট থেকে ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার ইনবক্সে গড়ায়।
কমেন্ট থেকে ইনবক্সে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
অভিযোগ রয়েছে, ফেসবুকের প্রকাশ্য মন্তব্যে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর মেসেঞ্জার ইনবক্সেও উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে।
রিপোর্টার জয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই কথোপকথনে তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী পক্ষের কাছে থাকা কথোপকথনের স্ক্রিনশটের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইনবক্সে রিপোর্টার জয়কে উদ্দেশ্য করে—“সাত ফুট মাটির নিচে থাকলেও তোরে ধরে আনব”, “তোর বিরুদ্ধে মামলা রেডি আছে” এবং “কলিজা থাকলে দেখা কর”—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া কথোপকথনের একপর্যায়ে রিপোর্টার জয়ের মা-বাবাকে জড়িয়ে অশালীন ও ব্যক্তিগত মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে।
ভাষা সংযত করার অনুরোধের পরও উত্তেজনা
রিপোর্টার জয়ের পক্ষের দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি একাধিকবার কথোপকথনে ভাষা সংযত করার অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, হুমকি ও অশালীন বক্তব্যের স্ক্রিনশটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে এসব তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ‘Journalist Mukta Mia’ আইডির ব্যবহারকারীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
প্রমাণ সংরক্ষণ, আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি
রিপোর্টার জয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেসবুক কমেন্ট, মেসেঞ্জার কথোপকথনের স্ক্রিনশটসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি, অশালীন ভাষা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য, মতবিরোধ বা কোনো সংবাদ, মন্তব্য কিংবা বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে সেই মতবিরোধ যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর্যায়ে পৌঁছে, তাহলে তা উদ্বেগের বিষয়।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অনলাইন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে সংবাদ প্রকাশ, মতামত প্রকাশ এবং জনসচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি ও অশালীন মন্তব্যের ঘটনাও প্রায়ই আলোচনায় আসে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যুক্তিসংগত সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো মতবিরোধের জেরে হুমকি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার জয়ের অভিযোগ, সংরক্ষিত স্ক্রিনশট ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


